চিতলমারীর দুই মেম্বারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ


মোঃ একরামুল হক মুন্সী:
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের দুই মেম্বারের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া পাওয়া গেছে। তারা সরকারী ঘর দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। এক বছর পেরিয়ে গেলেও তারা ঘর পায়নি এবং টাকাও ফেরত পাচ্ছে না। এই বিষয়ে এলাকার ভুক্তভোগী ১০ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ইউএনওর নিকট অভিযোগ করেছেন। এছাড়াও, ন্যায়বিচারের আশায় তারা বাগেরহাট জেলা প্রশাসক ও সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ জানান।
সন্তোষপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের দড়িউমাজুড়ি গ্রামের পংকজ রায় জানান, তিনি দিন মজুর। পরিবারের চার সদস্যের জরাজীর্ণ একটি ঘরে বসবাস করতে কষ্ট হয়। সরকারী ঘর পাইয়ে দেয়ার কথা বলে এক বছর আগে ইউপি সদস্য হরেন্দ্রনাথ শিকদার তার কাছ থেকে পাঁচ হাজার ২০০ টাকা নেয়। কিন্তু তিনি ঘর তো পাননি। এখনো পর্যন্ত টাকাগুলোও পাচ্ছেন না। তার মতো একই ভাবে টাকা নিয়েছেন মৃত্যুঞ্জয় বৈরাগী, বিধান হীরা, হরবিলাশ বসু, সুমনা হীরা, সীমা হীরাসহ অনেকের কাছ থেকে। কিন্তু তারা ঘর পাননি। টাকাও ফেরত পাচ্ছে না। এছাড়া, করোনা চলাকালে গত ঈদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ হতে মোবাইলে ২৫শ টাকা উপহার প্রদানের তালিকায় মেম্বার হরেন্দ্রনাথ শিকদার তার আত্মীয়ের নামকে প্রাধান্য দিয়েছে। এক্ষেত্রে তার জামাই প্রদীপ হালদারের নাম উল্লেখযোগ্য।
এ বিষয়ে মেম্বার হরেন্দ্রনাথ শিকদার সাংবাদিকদের জানান, এটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ষড়যন্ত্র; কোন অনিয়ম দুর্নীতিও করেননি বলে দাবী করেন।
সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিউটি আক্তার জানান, সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিউটি আক্তার জানান, সে একজন সামান্য ওয়ার্ড সদস্য তার বিরুদ্ধে আমার কাউন্সিলে এধরনের অভিযোগ অনেকে করেছে। করোনার ব্যস্ততার কারনে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।আর আমার ব্যাপাওে যা বলেছে এটা ভির্তিহীন।
অপরদিকে, সন্তোষপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের দড়িউমাজুড়ি গ্রামের ননীমোহন মন্ডলের স্ত্রী কাজল মন্ডল বলেন, তার স্বামী অসুস্থ্যতায় কাজ করতে পারেন না। ১৪ বছর ধরে তিনি নিজে দিনমজুরী করে সংসার চালান। সরকারী ঘর দেয়ার কথা বলে মেম্বার শ্রীবাস রায় তার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবী করে। সুদে এনে তিনি মেম্বারকে চার হাজার টাকা দেন। তিনি ঘর পাননি। সুদের দেনা টেনে চলেছেন। টাকা চাইলে মেম্বার খারাপ আচরণ করেন বলে তিনি জানান। তার মতো আরো অনেকে এই ধরনের অভিযোগ করেন। অথচ, জমি আছে ঘর নাই প্রকল্পের শর্ত ভঙ্গ করে সরকারী ঘর দিয়েছেন যারা ২৫ থেকে ৭০ শতক জমির মালিক।
এছাড়াও, করোনা চলাকালে গত ঈদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ হতে মোবাইলে ২৫শ টাকা উপহার প্রদানের তালিকায় মেম্বার শ্রীবাস রায় তার মা জ্যোতিময় রায়ের নাম দিয়েছে। অনেক উপকারভোগীর নামের পাশে তার প্রকৃত মোবাইল নম্বর না দিয়ে মেম্বার তার নিজের লোকের নম্বর দিয়েছে। এসব দুর্নীতির বিচারের দাবীতে এলাকাবাসী এখন সোচ্চার।
এ ব্যাপারে বক্তব্যের জন্য মেম্বার শ্রীবাস রায়ের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মারুফুল আলম জানান, দুই মেম্বরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসছে; উভয়কে নোটীশ দেয়া হয়েছে; আগামি কাল শুনানী হবে।

     এ জাতীয় আরো খবর..

আমাদের পত্রিকায় আপনাকে স্বাগতম

লাইভ ভিডিটর

34
Live visitors

সংবাদ খুজছেন… নিচের বক্সে শিরোনাম লিখুন