শরণখোলায় ১ হাজার চাষীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে

সাবেরা ঝর্না, শরণখোলা (বাগেরহাট):
বাগেরহাটের শরণখোলায় বিভিন্ন গ্রামে সমন্বিত খামার ব্যবস্থাপনায় ২০টি কৃষক মাঠ স্কুল গঠনের মাধ্যমে হতদরিদ্র ভূমিহীন ও প্রান্তিক ৫০০ কৃষক পরিবারে এক হাজার কৃষকদের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে পারদর্শী ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ১ বছর মেয়াদী উন্নত পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ও ডেনমার্ক সরকারের অর্থায়নে কৃষি অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় এ প্রশিক্ষণ চলছে। এ চাষীদের মধ্যে গাছের চারা, কৃষি উপকরণসহ বিভিন্ন মালামাল বিতরণ করা হয়েছে।
শরণখোলা উপজেলা কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ মোস্তফা মশিউল আলম জানায়, সমন্বিত খামার ব্যবস্থাপনা কম্পোনেন্ট দ্বিতীয় পার্যায় (আইএফএমসি-২) প্রকল্পের মাধ্যমে ২৫ পরিবারের ৫০ জন করে চাষীদের নিয়ে একটি কৃষক মাঠ স্কুল গঠন করা হয়েছে। উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের সমন্বিত খামার ব্যবস্থাপনা ২০টি কৃষক মাঠ স্কুল গঠন করে এক হাজার চাষীকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে হতদরিদ্রদের নিয়ে ২টি কৃষক মাঠ স্কুল গঠন করা হয়। এ ২০টি স্কুলে ৫০০ পরিবারের এক হাজার চাষীকে ১১মাস ব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। চাষীদের উন্নত পদ্ধতিতে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগী, কবুতর পালন, মাছ চাষ, সবজি চাষ এবং বিভিন্ন ফলদ উৎপাদনে পারদর্শী ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এ প্রশিক্ষণার্থী চাষীদের মধ্যে বিভিন্ন ফলের চারা, মাছের পোনা, হাঁসের বাচ্চা, কেচোঁ দিয়েভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরির জন্য রিং, টিন, বিভিন্ন প্রকার খাবার, কৃষি উপকরণ, মুরগীর ঘর নির্মাণ ও সবজির বীজসহ বিভিন্ন মালামাল বিতরণ করা হয়েছে। এ স্কুলগুলোর সদস্যদের প্রকল্পের কাজ তদারকি করে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ওয়াসিম উদ্দিন, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেন।
এ প্রকল্পের খুলনা ও রাজশাহীর আঞ্চলিক ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর রবিউল আমীন ও বাগেরহাট জেলার মাস্টার ফ্যাসিলিটেটর আফরোজা বিলকিস উত্তর কদমতলা হতদরিদ্র কৃষক মাঠ স্কুলের (আইএফএম এফএফএস) প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শন এবং প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে চাষীদের সাথে আলোচনা শেষে পক্ষিক চিতলমারীর অন্তরালেকে বলেন, শরণখোলা উপজেলায় ২০টি সমন্বিত খামার ব্যবস্থাপনা কৃষক মাঠ স্কুলের মাধ্যমে ৫০০টি হতদরিদ্র, ভূমিহীন, প্রান্তিক কৃষক পরিবার প্রায় ১ বছর প্রশিক্ষণ পেয়ে তাদের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে পারবে। দু’জন স্থানীয় কৃষক সহায়তাকারী প্রতি ৫টি কৃষক মাঠ স্কুলে নিয়মিত অংশগ্রহণমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান, তত্ত্বাবধায়ন, প্রযুক্তিগত উপকরণ সহায়তা, শিখন প্লট বাস্তবায়ন এর মাধ্যমে পরিবার গুলোর ভাগ্যের পরিবর্তন করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। উত্তর কদমতলা হতদরিদ্র কৃষক মাঠ স্কুলের কৃষক কৃষাণীদের আগ্রহ, কার্যক্রমের অগ্রগতি, ও প্রতিটি হতদরিদ্র পরিবারের এই সতস্ফুর্ত অংশগ্রহণকে আশাব্যাঞ্জক বলে অবহিত করে আরো বলেন, কৃষক পরিবারগুলো প্রকল্প কর্তৃক বিভিন্ন কৃষি উপকরণ সহায়তায় ও নিজস্ব সম্পদের সমন্বয়ে প্রতিটি বসতবাড়িতে আইএফএম প্রযুক্তি সমূহ – বসতবাড়ির বিভিন্ন জায়গার ব্যবহার, সবজি এবং ফল চাষ, উন্নত পদ্ধতিতে মুরগি ও গাভী পালন, গরু মোটাতাজাকরণ বাস্তবায়ন করে প্রতিটি বাড়ি একটি করে খামার বাড়িতে পরিণত করতে সক্ষম হচ্ছে। কৃষক পরিবারের নারীরা এই কৃষক মাঠ স্কুলে অংশগ্রহণের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি অর্থনৈতিক উৎপাদন, নিজেদের পারিবারিক ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবেন বলেও তারা মনে করেন। গত জুন মাসে শুরু হওয়া একই প্রকল্পের আওতায় বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জে ১৫টি ও রামপাল উপজেলায় ২০টি কৃষক মাঠ স্কুলের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

     এ জাতীয় আরো খবর..

আমাদের পত্রিকায় আপনাকে স্বাগতম

লাইভ ভিডিটর

36
Live visitors

সংবাদ খুজছেন… নিচের বক্সে শিরোনাম লিখুন