দিগন্ত জোড়া মাঠে সবুজের হাতছানি, দৃষ্টিনন্দন বাঙ্গির ফলন

মোঃ একরামুল হক মুন্সী;  বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার উত্তর-পূর্ব সীমান্তের মধুমতি নদীর চরাঞ্চলে দিগন্ত জোড়া মাঠে বাঙ্গি ফলের দৃষ্টিনন্দন ফলন হয়েছে। সবুজ-হলুদ রঙে সেজেছে বাঙ্গির ক্ষেত। বাহারী এই মৌসুমী ফল বাঙ্গির বাজারে দরও চড়া। ফলন ও বাজার দরে খুশি চাষীরা।

কলাতলা ইউনিয়নের শৈলদাহ গ্রামের বাঙ্গি চাষী কবিতা রানী ঘরামী জানান, উপজেলার শৈলদাহ, বাকপুর, কুনিয়া গ্রামে এবার ব্যাপক বাঙ্গি হয়েছে। তিনি এ বছর প্রায় দেড় একর জমিতে বাঙ্গি চাষ করেছেন। প্রায় সাড়ে তিন মাস পরিচর্যার পর ফলন ফলেছে। এখন বাঙ্গি পাকতে শুরু করেছে। প্রতিদিন পাকা বাঙ্গি তুলে বাজারে পাঠাচ্ছেন। একই গ্রামের শাহাজান শেখ, ইব্রাহিম শেখ, জিয়াউর রহমানসহ অন্যান্য চাষীরা জানান, বর্তমানে স্থানীয় বাজারে বড় আকারের (প্রায় পাঁচ কেজি) বাঙ্গি প্রতিটি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, মাঝারি আকারের (প্রায় তিন কেজি) প্রতিটি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং ছোট আকারের (প্রায় দেড় কেজি) প্রতিটি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দরে কেনা-বেচা চলছে।
চিতলমারী উপজেলা সদর বাজারের পাইকারী বাঙ্গি ব্যাবসায়ী একরাম খান, সলেমান শেখ জানান, এখন গরমকালে বাঙ্গি ফলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চিতলমারীতে উৎপাদিত বাঙ্গি ফল ঢাকা, খুলনাসহ মহানগরের বাজারেও যাচ্ছে। আরো বেশি জমিতে বাঙ্গি চাষ হলে দাম কিছুটা কমতো।
২৮ মার্চ রোববার  চিতলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঋতুরাজ সরকার জানান, বাঙ্গি ফলে রয়েছে প্রচুর শর্করা, খনিজ, মিনারেল, ভিটামিন-এ এবং সি। এজন্য গরমে বাঙ্গি ফলের গুরুত্ব অপরিসীম। এছাড়া বাঙ্গি ফলে সুগার কম থাকায় ডায়বেটিস রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরো জানান, বাঙ্গির বৈজ্ঞানিক নাম ঈঁপঁসরং সবষড় এবং ইংরেজি নাম গঁংশসবষড়হ। শরীর ঠান্ডা রাখতে তরমুজের পর বাঙ্গি দ্বিতীয় তালিকায় রয়েছে। বাঙ্গি গাছ দেখতে অনেকটা শসা গাছের মতো, লতানো। অনেকে কাঁচা বাঙ্গি সবজি হিসেবে রান্না করে খায়। ফল পাকলে হলুদ রঙ ধারণ করে। চলতি বছরে চিতলমারী উপজেলায় প্রায় ৫০ একর জমিতে বাঙ্গি চাষ হয়েছে বলে ঋতুরাজ সরকার জানান।

     এ জাতীয় আরো খবর..

আমাদের পত্রিকায় আপনাকে স্বাগতম

লাইভ ভিডিটর

27
Live visitors

সংবাদ খুজছেন… নিচের বক্সে শিরোনাম লিখুন