দেশে মব জাস্টিস বা গণপিটুনির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও গণপিটুনির ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি ভুক্তভোগীর তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছেন না বিদেশি নাগরিকও। যেমন, গেল মঙ্গলবার রাজধানীর ভাটারায় দিনদুপুরে মারধরের শিকার হয়েছেন দুই বিদেশি নাগরিক। ভাটারা থানার ওসি জানিয়েছেন, আহত বিদেশি দুজন ইরানের নাগরিক। কেন মব তৈরি করে তাদের মারধর করা হয়েছে তা স্পষ্ট নয়; তবে তাদের সঙ্গে থাকা ফোন ও নগদ অর্থ ছিনতাই হয়েছে। এদিকে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় যা ঘটেছে, তা আরও ভয়াবহ। বুধবার যুগান্তরের অপর এক খবরে প্রকাশ-সালিশের জন্য ডেকে নিয়ে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ‘মব জাস্টিস’ তৈরি করে জামায়াতের দুই কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার মধ্যরাতের এ ঘটনায় নিহতদের পুরো শরীর ক্ষতবিক্ষত ও বিকৃত হয়ে গেছে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও অন্তত পাঁচজন।
প্রথমেই বলতে হয়, ‘মব জাস্টিস’ কথাটির মধ্যেই আপত্তির বিষয় রয়েছে। কারণ মব কখনো জাস্টিস হতে পারে না। জমায়েত হয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া আইনের লঙ্ঘন। অপরাধী যে অপরাধই করে থাকুক, তার জন্য দেশে প্রচলিত আইন রয়েছে। প্রমাণ সাপেক্ষে শাস্তির বিধানও রয়েছে। বড় হোক কিংবা ক্ষুদ্র, কোনো ঘটনাতে সাধারণ মানুষ যদি অগ্রপশ্চাৎ না জেনে শাস্তি দেওয়ার কাজে শামিল হয়, তা আইনের শাসনকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া শুধু আইনকে অবজ্ঞারই শামিল নয়, বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতারও ইঙ্গিত দেয়। রাজধানীতে দুই বিদেশির ঘটনা উদ্বেগজনক, তা বলাই বাহুল্য। আর চট্টগ্রামের ঘটনার বিষয়টি সরকারের বিশেষভাবে ভেবে দেখার কারণ রয়েছে। যেভাবে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে গ্রামের লোক জড়ো করে মব জাস্টিসে জড়ানো হয়েছে, দুজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তা ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। এ ধরনের ঘটনার রাশ টানা না গেলে জনমনে শুধু আতঙ্কই দেখা দেবে না, সমাজে তীব্র নিরাপত্তাহীনতাবোধেরও জন্ম নেবে।
প্রকৃতপক্ষে গণপিটুনি ব্যাপারটি কেবল অমানবিকই নয়, সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও অবৈধও বটে। বাংলাদেশ সংবিধানের ৩১, ৩৩ ও ৩৫ অনুচ্ছেদ মোতাবেক আইনের আশ্রয় লাভ, আইনানুযায়ী ব্যবহার লাভ, বিচার লাভ, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ লাভ-অপরাধী ও নিরপরাধ নির্বিশেষে প্রত্যেকের মৌলিক অধিকার। অন্যদিকে অপরাধীকে গ্রেফতার করা পুলিশের আইনগত দায়িত্ব। গণপিটুনিতে কেউ জড়িত প্রমাণে অর্থদণ্ড-কারাদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। ঘটনাভেদে এ শাস্তি যাবজ্জীবন পর্যন্ত হতে পারে। কাজেই কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও এমনটা ঘটার জন্য শুধু আইনের শাসনের দুর্বলতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করলে হবে না, বরং উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতির অভাবকেও দায়ী করতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধে তাই রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে এ চর্চা বৃদ্ধির ওপর জোর দিতে হবে বলে মনে করি আমরা। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও তৎপর হতে হবে। কারণ দায়ীদের দ্রুত গ্রেফতারের নজির সৃষ্টি হলে পরবর্তী সময়ে এমন কাজে কেউ জড়াতে সাহস পাবে না। সরকার মব জাস্টিস বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, এটাই প্রত্যাশা।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ একরামুল হক মুন্সী, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মঞ্জুর মোর্শেদ স্বপন মোবা: ০১৭৬৮-৭৩০০৬৮, বার্তা সম্পাদক তানজীর মুন্সী, আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট এস এম ইমরান হোসেন, সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক: দেবকী মল্লিক, খুলনা ব্যুরো চীফ মুহাম্মদ নাঈমুজ্জামান শরীফ, মোবা: ০১৯১৮-৮৪৮২৩৬।ঢাকা অফিস: প্রশান্তি টাওয়ার, ৮-অভয়দাস লেন, ঢাকা-১২০৩, মোবা: ০১৯১৯-৮৩৪১৬৪, সম্পাদকীয় কার্যালয়: থানা মসজিদের পশ্চিম, চিতলমারী, বাগেরহাট। মোবাইল নং ০১৯৬১-৪২৪৯৯৯ E-mail: akramzesen1@gmail.com অলিফ প্রিন্টিং প্রেস, ২২১ ফকিরা পুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও চিতলমারী থেকে প্রকাশিত।
All rights reserved © 2019 /chitalmarirantorale.com