একরামুল হক মুন্সী:
১৯৭১ সালের জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে পিরোজপুর জেলার পাকবাহিনী বলেশ্বর নদীপথে আর বাগেরহাট ক্যাম্পের পাকবাহিনী ও রাজাকার স্থলপথে আক্রমন চালায় চিতলমারী অঞ্চলে। চারপাশে শুধু আগুণের লেলিহান শিখা। হত্যা, ধর্ষন,লুট-তরাজসহ চালানো হয়েছিল নারকীয় তান্ডব। স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধি শক্তির ফিরেদেখা ইতিহাস শুনে রিতিমত চমকে উঠবে। “আমার দেশ” কে দেয়া এক সাক্ষাতকারে এ কথা বলেন, চিতলমারী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক এফএম ফরহাদ হোসেন (৭২)।
তিনি বলেন ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে চিতলমারী বাজারের পাশে খড়মখালী গ্রামে যে ভবনটি আজও ভগ্নদশায় দন্ডায়মান রয়েছে সে ভবনটি ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের ক্যাম্প ছিল। ঐ ভবনটি ছিল প্রায়ত: শষ্টিচরণ হালদার এর বাসভবন। যুদ্ধচলাকালিন সময় নিজের পরিবার অন্যত্র রেখে শষ্টিচরন হালদার মুক্তিযোদ্ধাদেও জন্য ভবনটি ছেড়ে দেন। এই ভবন থেকে পিরোজপুর,বাগেরহাট,গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় খানসেনা ও রাজাকারদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হতো।
শষ্টিচরন হালদারের অসুস্থ পুত্রবধু প্রমিলা হালদার (৮৫) বলেন, এই ক্যাম্পে খানসেনা আর রাজাকাদের ধরে আনা হতো। মুক্তিযোদ্ধারা তাদের হাত পা’ চোক বেঁধে মারপিট করতো। আবার গুলিকরে মেরে দুরে ফেলে দিয়ে আসতো।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিয়ার রহমান গাজী বলেন, তৎকালিন সময় চিতলমারী ইউপি চেয়ারম্যান (বর্তমান মরহুম) অকবার আলী সরদার পাকিস্তানী বাহিনীর পক্ষে পিচ কমিটি বা শান্তি কমিটি গঠন করতে চিতলমারী সদরে আসেন। সে সময় স্থানীয় মুরব্বি আব্দুল গনি খান, বড় মেয়া সাখাওয়াত শেখ, শের আলী মোল্লা, কায়েম আলী শেখ সহ অনেকের প্রতিরোধের মুখে তারা দৌড়ে পালান। তারা বলেন, শান্তি কমিটির নামে এখানে অশান্তি বা অন্যায় সহ্যকরা হবেনা।
বীর মুক্তিযোদ্ধা অফজাল হোসেন বলেন, ১৯৭১ সালের জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে পিরোজপুরের পাকবাহিনী নদীপথে এবং বাগেরহাটের পাকবাহিনী স্থলপথে নিরিহ মানুষের ওপর সশস্ত্র আক্রমন চালায়। এইদিন বাবুগঞ্জবাজার, খলিশাখালী,খড়মখালী,দুর্গাপুরসহ দশ মহলের হিন্দু অধ্যুষিত ৬-৭টি গ্রামের প্রায় দেড় শতাধিক নারী-পুরুষ হত্যা করা হয়। এ সময় বাদ পড়েনি অন্তসত্ত্বা নারীও। অনেক বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজ করা হয়ে ছিলো, তখন হালদার বাড়ির ক্যাম্পভবন থেকে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন মুক্তিযোদ্ধারা।যার নেতৃত্বদেন ক্যাপ্টেন তাজুল ইসলাম, লেফটেন্যান্ট সামচুল হক মল্লিকসহ ক্রমাগতভাবে অনেকে।
তবে একবারের বেশী হানাদার পাকিস্তানীরা চিতলমারী এলাকায় অভিযান চালাতে পারেনি।খড়মখালী গ্রামের যুক্তিযুদ্ধের এই ক্যাম্প ভবনটি ছিলো মুক্তিযুদ্ধের দ্বি-তল বিশিষ্ট বড় ধরনের ঘাটি। এটাকে সংরক্ষণ এবং সংস্কারেজন্য আশুদৃষ্টি কামনা করছেন প্রায়ত: শষ্টিচরন হালদারের নতুন প্রজন্ম এবং সাধারণ মানুষ। তাদের অনুরোধ ভবনটি বাঁচিয়ে রাখলে আগামি প্রজন্ম জানতে পারবে মুক্তিযুদ্ধ কি এবং কেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ একরামুল হক মুন্সী, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মঞ্জুর মোর্শেদ স্বপন মোবা: ০১৭৬৮-৭৩০০৬৮, বার্তা সম্পাদক তানজীর মুন্সী, আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট এস এম ইমরান হোসেন, সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক: দেবকী মল্লিক, খুলনা ব্যুরো চীফ মুহাম্মদ নাঈমুজ্জামান শরীফ, মোবা: ০১৯১৮-৮৪৮২৩৬।ঢাকা অফিস: প্রশান্তি টাওয়ার, ৮-অভয়দাস লেন, ঢাকা-১২০৩, মোবা: ০১৯১৯-৮৩৪১৬৪, সম্পাদকীয় কার্যালয়: থানা মসজিদের পশ্চিম, চিতলমারী, বাগেরহাট। মোবাইল নং ০১৯৬১-৪২৪৯৯৯ E-mail: akramzesen1@gmail.com অলিফ প্রিন্টিং প্রেস, ২২১ ফকিরা পুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও চিতলমারী থেকে প্রকাশিত।
All rights reserved © 2019 /chitalmarirantorale.com