শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০০ পূর্বাহ্ন

মো. একরামুল হক মুন্সী:
সমাজে নানা কাজে রেখেছেন অসামান্য অবদান। অসাহায় গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের বই-খাতাসহ নানা শিক্ষা উপকরণ কিনে দিতেন নিজের পকেটের টাকায়। পাশাপাশি সমাজের নানা অসংগতির কথা নিয়মিত লিখতেন পত্রিকার পাতায়। বিরামহীন ছুটেচলা সেই জুড়ান চন্দ্র মণ্ডল এখন রোগ শয্যায় বিছানায় পড়ে আছেন। টাকার অভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না তার। ক্রমেই নিভে আসছে জীবন প্রদীপ। দ্রুত তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের বাসিন্দা জুড়ান চন্দ্র মণ্ডল গত ৬ মাস ধরে অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন। স্টোক করায় শরীরের একপাশ তার অচল হয়ে গেছে। বিছানা থেকে উঠতে পারছেন না তিনি। চিকিৎসা নেওয়ার মতো কোন সংগতি নেই তার। অভাবের সংসার। এক সময় পেশায় দর্জির কাজ করতেন তিনি। এতে যেটা রোজগার হত সেখান থেকে সংসার চালানোর পাশাপাশি অসাহায় গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের বই-খাতাসহ নানা শিক্ষা উপকরণ কিনে দিতেন তিনি। এছাড়া তিনি নিয়মিত সমকালীন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় লিখতেন। পাশাপাশি তিনি অনেক নাটক লিখেছেন। সেগুলি নিজের অর্থায়নে মঞ্চায়ন করেছেন। সমাজে আলোক বর্তিকা হয়ে কাজ করা সেই মানুষটি এখন চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন।
এ বিষয়ে লেখক ও সাংবাদিক পংকজ মন্ডল জানান, জুড়ান চন্দ্র মণ্ডল একজন স্বশিক্ষিত লোক। তিনি অনেক অর্থিক অনাটনের মধ্যে থেকেও সমাজে অনেক অবদান রেখেছেন। মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর শিক্ষা উপকরণ কিনে দিতেন। এছাড়া তিনি পাক্ষিক “চিতলমারীর অন্তরালে” পত্রিকায় নিয়মিত লেখাসহ বিভিন্ন পত্রিকায় গল্প,কবিতা প্রবন্ধ লিখতেন। পাশাপাশি অনেক নাটক লিখে মঞ্চায়ন করেছেন তিনি। তার চিকিৎসায় সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার খাদিজা আক্তার জানান, জুড়ান মণ্ডলের অসুস্থতার বিষয়টি তার জানা নেই। সাংবাদিকদের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জেনেছেন। তিনি জুড়ান মণ্ডলের বাড়িতে পরিদর্শন করে তার চিকিৎসার ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেবেন।