বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
সাংবাদিক পুত্র প্রিতমকে নরসিংদী থেকে উদ্ধার-প্রশাসন ও গনমাধ্যমকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ চিতলমারীতে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে সাংবাদিকপুত্রের নিখোঁজ, সন্ধানের আকুতি চিতলমারীতে ডিভোর্সি স্বামীর হত্যা চেষ্টা: অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন এক নারী চিতলমারীতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত চিতলমারী হাসিনা বেগম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নবগঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটিকে সংবর্ধনা প্রদান চিতলমারীতে দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে প্রশাসনের প্রস্তুতিমূলক সভা স্মৃতির আলো-ছায়ায় এক জীবন: এক লড়াকু সাংবাদিকের আত্মকাহিনি বাগেরহাটে ইসলামী মহাসম্মেলন ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি, নেতৃত্বে মাওলানা মাহফুজুর রহমান ট্রাম্পের নৈশ ভোজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ফাস্ট লেডি ডা. জুবাইদা রহমান চিতলমারীতে হেলমেট মাথায় পরে অফিসে প্রশাসনিক কর্মকর্তা

চিতলমারীতে ডিভোর্সি স্বামীর হত্যা চেষ্টা: অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন এক নারী

রিপোর্টারের নাম / ৫৯৫ টাইম ভিউ
আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ভালোবাসার চরম মূল্য দিতে হলো ২৪ বছরের তরুণী রানী আক্তারকে। নেশাগ্রস্ত স্বামীর অত্যাচার সইতে না পেরে ডিভোর্স দিয়েও শেষ রক্ষা পাননি তিনি ও তার পরিবার। শুধু অর্থ লোপাটের উদ্দেশ্যে বিয়ে করা সেই সাবেক স্বামী এবার রানীকে এসিডে ঝলসে দেওয়া এবং পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছে বলে রানীর দাবি। ১৩ অক্টোবর (মঙ্গলবার) রাত ২টা ৩০ মিনিটে চিতলমারী উপজেলার হিজলা শেখপাড়া গ্রামে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। ভাগ্য সহায় থাকায় ওই রাতে রানী তার পিত্রালয়ের ওই নির্দিষ্ট ঘরে ঘুমাননি, যার ফলে তিনি অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান।
রানী আক্তার চিতলমারী উপজেলার হিজলা শেখপাড়া গ্রামের শেখ লিয়াকত আলীর মেয়ে। অন্যদিকে, তার সাবেক স্বামী আল আমিন একই উপজেলার শান্তিখালী গ্রামের ইউসুব শেখের ছেলে।
রানী আক্তার ঘরে ধ্বংসস্তূপের দিকে তাকিয়ে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন “আমি ওরে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম। কিন্তু বিয়ের পর বুঝলাম ও মানুষ না, একটা নেশাখোর পিশাচ। ওর চোখ ছিল শুধু আমার বাবার বাড়ির টাকার দিকে। দিনের পর দিন অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে যখন ডিভোর্স দিলাম, তখনো ওর ঘোর কাটেনি। ও আমাকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিত মুখে এসিড মারার। আর কাল রাতে তো মেরেই ফেলতে চেয়েছিল। আমি যদি ওই ঘরে ঘুমাতাম, আজ আমি কয়লা হয়ে যেতাম। আমি প্রশাসনের কাছে বিচার চাই, আমি বাঁচতে চাই। ও বাইরে থাকলে ও আমাকে আর আমার পরিবারকে বাঁচতে দেবে না।”
রানী আক্তার জানান, এর আগেও তাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে আল আমিন মাছ কাটার বটি নিয়ে ধাওয়া করেছিল। তখন তিনি কোনোমতে দৌড়ে পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন। এই নৃশংস বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে এলাকায় সালিশ দরবারও হয়েছিল বলে রানী উল্লেখ করেন।
এলাকার লিয়াকত শেখ বলেন, রানীকে পুড়িয়ে মারতে মাঝরাতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ায় রানীর শোবার ঘরের আসবাবপত্র, খাট, লেপ তোষক ও কাপড়সহ প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আগুন ও চিৎকার শুনে এলাকাবাসী এসে তা নিয়ন্ত্রণে আনে। ভাগ্যবশত ওই রাতে রানী আক্তার তার নিদৃষ্টরুমে ঘুমাননি ।
রানীর মা- চায়না বেগম বলেন চিহ্নিত এই নেশাখোর আল আমিনের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। যৌতুক হিসেবে ও আমার কাছ থেকে লাখ-লাখ টাকা নিয়েও আমার মেয়েকে শান্তিতে থাকতে দেয়নি।
এব্যাপারে চিতলমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জে.এম. মাসুম জানান, তিনি সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। ভিকটিম মামলা দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এব্যপারে আল আমিনের মোবাইল ফোনে রিং দিলে সংযোগ বন্দ পাওয়া যায়।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *