বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
 মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দেখে পালালেন প্রধান শিক্ষক : নিষিদ্ধ গাইড বই ও প্রশ্নপত্র জব্দ আধুনিক ও টেকসই কৃষি উন্নয়ণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, অধ্যক্ষ মশিউর রহমান এমপি চিতলমারীতে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল: পূর্ণাঙ্গ কমিটিই একমাত্র সমাধান চিতলমারীতে প্রতিবন্ধীদের সহায়তায় হুইল চেয়ার বিতরণ চিতলমারীতে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের অপতৎপরতার প্রতিবাদে বিএনপির ৫ সংগঠনের মিছিল “বিদ্যুৎবিল পরিশোধের জন্য জরুরী ঘোষনা” চিতলমারীতে ৫ দিনব্যাপী কাব স্কাউটস বেসিক কোর্স সম্পন্ন চিতলমারীতে জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন চিতলমারীতে পুলিশের বড় অভিযান: গ্রেপ্তার ১০, উদ্ধার ১

ছোট্ট রামিসার প্রতি বর্বরতায়, রিতিমত গা শিউরে ওঠে

রিপোর্টারের নাম / ৫৩৯ টাইম ভিউ
আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন

   অনলাইন ডেক্স:
ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণের পর শুধু হত্যাই করা হয়নি, পরিকল্পনা ছিল তার লাশ এমনভাবে গুম করার, যেন কেউ কোনোদিন তাকে চিনতেই না পারে।
অভিযুক্ত সোহেল রানার নৃশংস পরিকল্পনা ছিল বহুদিনের। রামিসাকে প্রথম দেখার পর থেকেই সে তাকে টার্গেট করে। ধীরে ধীরে তার বিকৃত পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে শুরু করে। এমনকি শুধু এই উদ্দেশ্যেই রামিসাদের বাসার পাশের ফ্ল্যাটে বেশি টাকা খরচ করে ভাড়া নেয়, যাতে সহজে সুযোগ পাওয়া যায়।
ঘটনার দিন ছোট্ট রামিসা স্কুলে যাওয়ার জন্য বের হয়েছিল। নিষ্পাপ শিশুটি বুঝতেই পারেনি, পাশের বাসা থেকে তাকে ডাকা হচ্ছে মৃত্যুর ফাঁদে ফেলার জন্য।
অভিযোগ অনুযায়ী, সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না নিজ হাতে রামিসাকে ঘরে ডেকে নেয়। তারপর স্বামীর সামনে দাঁড়িয়ে দেখে কীভাবে নিষ্ঠুরভাবে শিশুটির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে সোহেল।
ধর্ষণের পর যখন শিশুটির রক্তক্ষরণ শুরু হয়, তখন তারা বুঝতে পারে ঘটনাটি গোপন রাখা কঠিন হবে। তখনই নেয় সবচেয়ে ভয়ংকর সিদ্ধান্ত, রামিসাকে হত্যা করার।
শুধু হত্যা করেই তারা থামেনি।
পরিকল্পনা ছিল লাশ টুকরো টুকরো করে পলিথিনে ভরে নদীতে অথবা ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দেওয়া হবে। মাথা আলাদা করে অন্য জায়গায় ফেলে দেওয়া হবে, যেন পরিচয় নিশ্চিত করা না যায়।
সে উদ্দেশ্যেই তারা ছোট্ট রামিসার মাথা ধড় থেকে আলাদা করে। এরপর দুই হাত-পা কেটে শরীর টুকরো করার কাজও শুরু করে।
এমনকি তদন্তে উঠে এসেছে, চোখ, কান, মুখ বিকৃত করার পরিকল্পনাও ছিল, যাতে পরিচয় মুছে যায়।
কিন্তু আল্লাহর রহমত, ঠিক তখনই দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন রামিসার মা।
আতঙ্কে তারা পরিকল্পনা শেষ করতে পারেনি।
তড়িঘড়ি করে কাটা মাথাটি বাথরুমের রঙের বালতিতে লুকিয়ে রাখা হয়। শরীরের বাকি অংশ খাটের নিচে ঠেলে রাখা হয়। এরপর জানালার গ্রিল কেটে পালানোর চেষ্টা করে সোহেল।
সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, পুরো ঘটনার সময় স্ত্রী স্বপ্না শুধু নীরব দর্শক ছিল না, বরং স্বামীকে পালাতে সাহায্য করে ভেতর থেকে দরজা লক করে রাখে, যেন কেউ ঢুকতে না পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক হওয়ার পরও স্বপ্নার মুখে কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি। বরং তার আচরণে এমন ভাব ছিল যেন তারা কোনো ভুলই করেনি।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, দীর্ঘদিন ধরে পর্ণোগ্রাফি ও বিকৃত যৌনাচারের নেশায় ডুবে ছিল সোহেল। তার স্ত্রীও ধীরে ধীরে সেই বিকৃত মানসিকতার অংশ হয়ে পড়ে।
এ যেন শুধু একটি হত্যা নয়, এ যেন মানবতার উপর বর্বরতম আঘাত।
একটি ৮ বছরের নিষ্পাপ শিশু, যে হয়তো ভাবছিল পাশের আন্টি তাকে কোনো দরকারে ডাকছেন, সে বুঝতেই পারেনি, কয়েক মিনিটের মধ্যেই তার পৃথিবী থেমে যাবে।
রামিসার শেষ মুহূর্তগুলো কল্পনা করলেও গা শিউরে ওঠে। ভয়, আতঙ্ক, বাঁচার আকুতি, অসহায় ছোট্ট হাত-পায়ের ছটফটানি… কিন্তু কেউ তাকে বাঁচাতে পারেনি।
রামিসা আর ফিরবে না।
কিন্তু তার এই নির্মম মৃত্যু আমাদের সমাজকে প্রশ্ন করে যায়: আমরা কোথায় যাচ্ছি? মানুষের ভেতরের পশুত্ব কি এতটাই ভয়ংকর হয়ে গেছে?
আল্লাহ ছোট্ট রামিসাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন। আর এই নির্মমতার সাথে জড়িত প্রত্যেক অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হোক। আমিন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *