বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন

মো. একরামুল হক মুন্সী:
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও কার্যকর নেতৃত্বের অভাব দলটিকে গভীর সংকটের মুখে ফেলেছে| দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোমিনুল হক টুলু বিশ্বাসকে বহিষ্কার করা হয়| তাঁর বহিষ্কারের দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও জেলা বিএনপির নীতিনির্ধারক মহল পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে ব্যর্থ হওয়ায় পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের ক্ষোভ ও নানাবিধ দ্বন্দ্বে তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে|
অভিযোগ রয়েছে, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের অবমূল্যায়ন করে একপেশে ‘পকেট কমিটি’ গঠনের চেষ্টা এবং কালক্ষেপণ করার কারণে বহিষ্কৃত সভাপতি মোমিনুল হক টুলু বিশ্বাস দলের মূল ধারার নেতাকর্মীদের দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে দূরে সরিয়ে রেখে ছিলেন| এর ফলে আধিপত্য বিস্তার ও পদ-পদবি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ক্রমš^য়ে ক্ষোভের দানা বাঁধছে| অভ্যন্তরীণ এই বিবাদ যেকোনো সময় প্রকাশ্যে সহিংসতায় রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা|
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইঞ্জি. আকরাম হোসেন তালিম এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, দলীয় কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করতে এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিলেও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুল হাসান অপু জরুরি কাজে ঢাকায় অবস্থান করায় বিলম্বিত হয়েছে| এব্যপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে|
জেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য মঞ্জুর মোর্শেদ স্বপন বলেন, “একটি দলকে সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য পূর্ণাঙ্গ কমিটি অত্যন্ত জরুরি| এই কমিটি গঠনে যত বিলম্ব হবে, দলের ভেতর তত বেশি বিভাজন তৈরি হবে| তাই ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন করে অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা উচিত|”
এ ব্যাপারে জেলা উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আহসান হাবীব ঠান্ডু বলেন, “উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোমিনুল হক টুলু বিশ্বাস দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর জেলা কমিটি আমাকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব প্রদান করেন| এই সিদ্ধান্তের প্রেস বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে পাঠানোর পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদেরও অবহিত করা হয়| তবে দলের একটি পক্ষ সমš^য়হীনতার কারণে আমাকে সহযোগিতা না করায় তৃণমূলের মাঝে কিছুটা ক্ষোভ বিরাজ করছে| এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কোনো বিকল্প নেই|”
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এড. ফজলুল হক এর নিকট প্রশ্ন ছিল, উপজেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হলে আগামীতে দলের ওপর কতটুকু প্রভাব পড়বে| তিনি বলেন, “বিএনপি একটি বড় দল, কোনো প্রকার প্রভাব পড়ার প্রশ্নই আসে না| সময়মতো সকলে একত্রিত হয়ে যাবে|”
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, “উপজেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি তৃণমূল নেতাকর্মীদের আস্থার জায়গা| দলে পদ-পদবি থাকলে দলীয় কর্মকাণ্ডে সকলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মনোযোগী হবে| আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হবে| সে কারনে জেলা বিএনপির দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যাহাতে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়|”