বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন

মো: একরামুল হক মুন্সী:
বিদ্যালয়ে খাতা-কলমে শিক্ষার্থী দেখানো হলেও বাস্তবে আশানুরূপ দেখা মেলেনি। প্রতি ক্লাশে ৫থেকে ৭জন শিক্ষার্থী নিয়ে চলমান রয়েছে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চর বানিয়ারি ইউনিয়ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। সোমবার (০৩ নভেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গৌরাঙ্গ বালা জানান সষ্ঠশ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত তার বিদ্যালয়ে ৫৩জন শিক্ষার্থীর অনুকুলে ১১জন শিক্ষক পাঠদান করছেন। এছাড়া কর্মচারী রয়েছেন ৭জন ।
খাতা কলমে ৫৩জন শিক্ষার্থী দেখানো হলেও শ্রেণি কক্ষের বাস্তবতার সাথে প্রধান শিক্ষকের তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়ে উপস্থিত যে কজন শিক্ষার্থী ছিলো তাদের ক্লাশ ভিত্তিক তথ্যের অমিল রয়েছে। এই পরিস্থিতি দেখার কেউ আছেন কিনা তা এলাকাবাসী না জানলেও, বছরের পর বছর অপ্রতুল শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও ১৮ জন শিক্ষক কর্মচারী নিয়মিত সরকারি বেতন ভাতা তুলছেন।
জানা গেছে ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়টির অনেক সুনাম ছিল, কিন্তু উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি পীযূষ কান্তি রায় এই বিদ্যালয়ের সভাপতি থাকাকালিন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী আছে কিনা সেটি বিবেচনা করেননি। ক্ষমতার জোরে (শিক্ষক) নিয়োগ বানিজ্য করেছেন। তার পছন্দের মানুষকে নিয়োগ দিয়েছেন।
তারই ফলশ্রুতিতে ২৬জন শিক্ষার্থীর বিপরিতে বর্তমান ১১ শিক্ষক ও ৭ জন কর্মচারী বছরের পর বছর সরকারি বেতন ভাতা তুলছেন। যাহা সরকারি অর্থের অপচয় । বিদ্যালয়ে কোন টিসার কি’ টিউশনি করান? এমন প্রশ্নে এক শিক্ষার্থী বলে হ্যাঁ- অনুপ স্যার স্কুলে বসে আমাদের প্রাইভেট পড়ান। বিদ্যালয়ের নাম জানতে চাওয়া হলে উপস্থিত ১১ শিক্ষার্থীর অনেকে বলতে পারেনি। এমন কি বিদ্যালয়ের নামের ফলকটিও দেখা যায়নি।
প্রধান শিক্ষক গৌরাঙ্গ বালা জানান, ২০২৫ সালের এস,এস,সি পরীক্ষায় এ বিদ্যালয় থেকে ১১ জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহন করে। তার মধ্যে ০৫ জন উত্তীর্ণ হয়। দুইজন এ, মাইনাস এবং তিনজন পেয়েছে- বি ।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মফিজুর রহমান জানান ঐ বিদ্যালয় টির শিক্ষার মান ভালো নয় এবং শিক্ষার্থী সংকট আমি আগেই জেনেছি। এখন আপনি জানালেন- শুনলাম, দেখি কি ব্যবস্থা নেয়া যায়।
এব্যপারে এড হক কমিটির সভাপতি সঞ্জয় কুমার বাড়ৈ বলেন, তিনি নতুন কমিটিতে এসেছেন।
সমস্যা থাকলে দেখবেন।