মোঃ নাঈমুজ্জামান শরীফ : খুলনার রূপসা উপজেলার ৩নং নৈহাটি ইউনিয়নের চারটি গ্রাম—রামনগর, তালিমপুর, জয়পুর ও নিকলাপুরে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা একটি ভয়াবহ সংকটে রূপ নিয়েছে। বর্ষা মৌসুম এলেই হাজারো মানুষ তাদের বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এমনকি সরকারি অফিসেও পানি ঢুকে পড়ার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েন। এই পরিস্থিতি থেকে রেহাই পেতে গত ২৭ জুলাই ২০২৫ ইং তারিখে এলাকার জনসাধারণ এক বিশাল গণস্বাক্ষরিত আবেদনপত্র জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, অফিসে জমা দেন। আবেদনপত্রে জলাবদ্ধতার প্রকৃত কারণ, প্রশাসনিক উদাসীনতা এবং তাদের করণীয় সুপারিশসমূহ স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণ: রেললাইন সংলগ্ন প্রাকৃতিক জলাধার ভরাট ও অবৈধ স্থাপনা অভিযোগে বলা হয়, এক সময় বাগমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পূর্বদিকে রেললাইনের পাশে একটি বড় জলাশয় বা ড্রেন ছিল। এটি দিয়ে এলাকাজুড়ে পানি নিষ্কাশন হয়ে ১৮ বেকি নদীতে যেত। কিন্তু সময়ের সাথে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ঐ জলাধার বালি দিয়ে ভরাট করে দোকানপাট ও ভবন নির্মাণ করেছে। বিশেষ করে একজন ব্যক্তি (নাম উল্লেখসহ) জলাধারটি বালু ফেলে ভরাট করে সেখানে ভবন গড়েছেন এবং নিচ দিয়ে সরু পাইপ বসিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেছেন, যা পুরো এলাকাজুড়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত করছে। এতে শুধু ঘরবাড়ি নয়, স্থানীয় নৈহাটি ইউনিয়ন ভূমি অফিস-এও পানি প্রবেশ করছে। ২০২৪ সালের বর্ষা মৌসুমে অফিসের ভেতরে পানি ঢুকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র বিনষ্ট হয়। এ বিষয়ে অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মৌখিকভাবে রূপসা উপজেলা ভূমি অফিসকে অবহিত করলেও আজ অবধি কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বসতবাড়ি ও স্কুলে পানি, নৈহাটি ভূমি অফিস ঝুঁকিতে ; একই সমস্যায় পড়ছে এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও। জলাবদ্ধতার ফলে শিশুরা স্কুলে যেতে ভয় পায়, রোগবালাই ছড়ায়, এবং স্যানিটেশনের দুরবস্থা সৃষ্টি হয়। এলাকার মূল সরকারি অফিসটি যেখানে জনগণ নিয়মিত ভূমি সংক্রান্ত সেবা গ্রহণে যায়, সেখানে পানি জমে থাকায় জনসাধারণের ভোগান্তি যেমন বেড়েছে, তেমনি সরকারি কাগজপত্রের স্থায়িত্ব নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইতিপূর্বে তদন্ত হলেও প্রশাসনের নীরবতা ; এ বিষয়ে স্থানীয় জনসাধারণ পূর্ববর্তী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ ওহেদুজ্জামান তাঁর প্রতিনিধি পাঠিয়ে সরেজমিন তদন্ত করেন। তদন্তে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনের এহেন নিষ্ক্রিয়তায় হতাশ এলাকাবাসী শেষমেশ গণস্বাক্ষরিত আবেদনের পথ বেছে নেয়। জনগণের দাবিগুলোর সারসংক্ষেপ: ১. বাগমারা সরকারি বিদ্যালয় থেকে শুরু করে পূর্বমুখী ড্রেন সংস্কার করে তা ১৮ বেকি নদীর সঙ্গে সংযুক্ত করা। ২. ভূমি অফিসের পশ্চিম পাশের হাফিজ সড়কের ড্রেন সংস্কার করে নদীর সাথে সংযোগ স্থাপন। ৩. তালিমপুর কদমতলা রাস্তায় চলমান ড্রেন পুনঃখনন করে পানির পথ সৃষ্টি করা। ৪. কবরস্থান সংলগ্ন বটতলার পাশে ড্রেন খনন পূর্বক নদীর সাথে সংযোগ। ৫. জয়পুর ও তালিমপুর মৌজার সংযোগস্থলে অব্যবহৃত সরকারি ১০ ফুট জমিতে ড্রেন তৈরি করা। আবেদনকারীদের দাবি: এলাকাবাসীর বক্তব্য, ড্রেন পুনঃখনন এবং ১৮ বেকি নদীর সঙ্গে পানির সংযোগ স্থাপন করা গেলে এ জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। তারা আবেদন করেছে, যেন চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের কাছে বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন। এই গণআবেদন এবং এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের সংকটকে কেন্দ্র করে প্রশাসন যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তাহলে আগামী দিনে তা আরও বড় ধরনের জনস্বার্থহানির কারণ হতে পারে। অতএব, সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের প্রতি অনুরোধ থাকবে—এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এলাকাবাসীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক। এলাকাবাসীর পক্ষে আবেদনকারীরা: – মোঃ আঃ মান্নান (স্বাক্ষরিত) – মোঃ নুরুজ্জামান – মোঃ আসাদুজ্জামান – মোঃ আমিনুল ইসলাম