শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
সাংবাদিক পুত্র প্রিতমকে নরসিংদী থেকে উদ্ধার-প্রশাসন ও গনমাধ্যমকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ চিতলমারীতে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে সাংবাদিকপুত্রের নিখোঁজ, সন্ধানের আকুতি চিতলমারীতে ডিভোর্সি স্বামীর হত্যা চেষ্টা: অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন এক নারী চিতলমারীতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত চিতলমারী হাসিনা বেগম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নবগঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটিকে সংবর্ধনা প্রদান চিতলমারীতে দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে প্রশাসনের প্রস্তুতিমূলক সভা স্মৃতির আলো-ছায়ায় এক জীবন: এক লড়াকু সাংবাদিকের আত্মকাহিনি বাগেরহাটে ইসলামী মহাসম্মেলন ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি, নেতৃত্বে মাওলানা মাহফুজুর রহমান ট্রাম্পের নৈশ ভোজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ফাস্ট লেডি ডা. জুবাইদা রহমান চিতলমারীতে হেলমেট মাথায় পরে অফিসে প্রশাসনিক কর্মকর্তা

চিতলমারীতে আলোচিত প্রধান শিক্ষক বিধান চন্দ্র ব্রহ্ম’র বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের সত্যতা মিলেছে।

রিপোর্টারের নাম / ৪০৫ টাইম ভিউ
আপডেট সময়: শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৭ পূর্বাহ্ন

বিশেষ প্রতিবেদক:
বাগেরহাটের চিতলমারীর বহুল আলোচিত কালশিরা রাজেন্দ্র স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিধান চন্দ্র ব্রহ্মের বিরুদ্ধে তদন্তকারী কর্মকর্তা অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সতত্যা পেয়েছেন| সংশ্লিষ্ট সূত্র ও অভিযোগের ভিত্তিকে জানা গেছে, চব্বিশের ৫ই আগষ্টের পর প্রধান শিক্ষক নিজে বাঁচতে ২০২৪ সালের ২৬ অক্টোবর বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক প্রভাত কুমার মজুমদারকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি অভ্যন্তরীন নিরীক্ষা কমিটি গঠন করেন| ওই নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতির চিত্র ফুটে ওঠে| ওই প্রতিবেদন সঠিক নয় বলে প্রধান শিক্ষকের মন্তব্য করেন| এর ফলে নিরীক্ষা কমিটিসহ ওই স্কুলের আরো ৭ জন সহকারি শিক্ষক ১৯ ডিসে¤^র ২০২৪ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৪৫ লাখ টাকা আত্মসাতের বিষয়টি তুলে অভিযোগ করেন| উল্লেখ্য গত ২০১৬ সালে বিধান চন্দ্র ব্রহ্ম কালশিরা রাজেন্দ্র স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন| এর পর থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে দলের প্রভাব খাটিয়ে প্রতিষ্ঠানের বড় অংকের টাকা আত্মসাৎ করেন|
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ১৯ ডিসে¤^র ২০২৪ শিক্ষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেও তদন্ত রিপোর্ট জমা না হওয়ায় পরবর্তীতে তদন্ত কাজ সুষ্ঠ ও দ্রুততার সাথে সমাপ্ত করার জন্য ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ তারিখ উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাকে সম্পূক্ত করেন| কিন্তু সমবায় কর্মকর্তা মোল্লা সাইফুল ইসলামকে বাদ দিয়ে তৎকালীন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মফিজুর রহমান একাই প্রায় ১ বছরের অধিক সময়ের পরে একতরফা তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেন|
বিষয়টি নিয়ে চিতলমারী উপজেলার মাসিক আইন-শৃংখলা সভায় উত্থাপিত হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বর্তমান মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আল মুরাদকে অধিকতর নিরপেক্ষ, বস্তুনিষ্ঠ, বিধি সম্মত ও তথ্য প্রমান ভিত্তিক তদন্তের নির্দেশ দেন| দীর্ঘ তিন মাস পর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও তদন্তকারী কর্মকতা মোঃ আল মুরাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশের আলোকে গত ১ জুলাই নিরপেক্ষ, বস্তুনিষ্ঠ, বিধি সম্মত ও তথ্য প্রমান ভিত্তিক তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেন|
তদন্ত রিপোর্টে প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিধান চন্দ্র ব্রক্ষের দুর্নীতি প্রকাশ পাওয়ায় তিনি প্রকাশ্যে ওই শিক্ষা কর্মকর্তাকে গালমন্দ করেন| অর্থ আত্মসাতের ঘটনাটি তিনি ধামাচাপা দিতে নেতাদের দিয়ে অভিযোগকারী শিক্ষকদের হুমকি-ধামকি দিয়েছেন| শুক্রবার (১০ জুলাই) ভূক্তভোগী শিক্ষকরা জানিয়েছেন নেতাদের হুমকি-ধামকিতে তারা ¯^পরিবারে ভীত-সন্তস্ত্র হয়ে পড়েছেন| এতেও ক্ষান্ত হননি ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচারণকারী প্রধান শিক্ষক বিধান চন্দ্র ব্রহ্ম| তিনি নেতাদের নিয়ে এখন প্রশাসনের দ্বারে দৌঁড়ঝাঁপ শুরু করছেন|
কালশিরা রাজেন্দ্র স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অভিযোগকারী সহকারী শিক্ষক প্রভাত কুমার মজুমদার, সুশান্ত কুমার ব্রহ্ম ও স্মৃতি রাণী ঘরামী বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগের ১৬ বছরে প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিধান চন্দ্র ব্রহ্ম ক্ষমতা অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রায় ৪৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন| এ ঘটনায় আমরা বিদ্যালয়ের ৭ জন শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করি| উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ২ জন কর্মকর্তা সমš^য়ে তদন্ত রিপোর্ট জমা প্রদানের নির্দেশ দেন| কিন্তু বহু টালবাহানা শেষে তৎকালীন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগের দোসর মোঃ মফিজুর রহমান একাই তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করেন| ওই রিপোর্ট প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বর্তমান মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আল মুরাদকে নিরপেক্ষ, বস্তুনিষ্ঠ, বিধি সম্মত ও তথ্য প্রমান ভিত্তিক অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন| সেই নির্দেশের আলোকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ আল মুরাদ গত ১ জুলাই তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেন| রিপোর্ট দাখিলের খবর শুনে সম্প্রতি তিনি স্কুলে নেতাদের ডেকে আমাদের বিরুদ্ধে উস্কে দেন| সেখানে উপস্থিত এক নেতা বিষয়টি চেপে যাওয়ার জন্য আমাদের নানা ধরনের হুমকি-ধামকি দেন|’
এ ব্যাপারে কালশিরা রাজেন্দ্র স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘শিক্ষা কর্মকর্তা আল মুরাদ আমার বিরুদ্ধে তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না| ওনার কাজ উনি করেছে| আমার কাজ আমি করব|’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আল মুরাদ জানান, তদন্তে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরিন নিরীক্ষা কমিটির ৩ সদস্যদের হিসাব সঠিক বলে প্রতীয়মান হয়েছে| এতে প্রধান শিক্ষক বিধান চন্দ্র অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে প্রমান মিলেছে|
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অধিকতর তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছেন| রিপোর্টটি পুঙ্খানু পুঙ্খানু ভাবে যাচাই বাছাই শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে|


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *