শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৭ পূর্বাহ্ন

বিশেষ প্রতিবেদক:
বাগেরহাটের চিতলমারীর বহুল আলোচিত কালশিরা রাজেন্দ্র স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিধান চন্দ্র ব্রহ্মের বিরুদ্ধে তদন্তকারী কর্মকর্তা অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সতত্যা পেয়েছেন| সংশ্লিষ্ট সূত্র ও অভিযোগের ভিত্তিকে জানা গেছে, চব্বিশের ৫ই আগষ্টের পর প্রধান শিক্ষক নিজে বাঁচতে ২০২৪ সালের ২৬ অক্টোবর বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক প্রভাত কুমার মজুমদারকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি অভ্যন্তরীন নিরীক্ষা কমিটি গঠন করেন| ওই নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতির চিত্র ফুটে ওঠে| ওই প্রতিবেদন সঠিক নয় বলে প্রধান শিক্ষকের মন্তব্য করেন| এর ফলে নিরীক্ষা কমিটিসহ ওই স্কুলের আরো ৭ জন সহকারি শিক্ষক ১৯ ডিসে¤^র ২০২৪ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৪৫ লাখ টাকা আত্মসাতের বিষয়টি তুলে অভিযোগ করেন| উল্লেখ্য গত ২০১৬ সালে বিধান চন্দ্র ব্রহ্ম কালশিরা রাজেন্দ্র স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন| এর পর থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে দলের প্রভাব খাটিয়ে প্রতিষ্ঠানের বড় অংকের টাকা আত্মসাৎ করেন|
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ১৯ ডিসে¤^র ২০২৪ শিক্ষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেও তদন্ত রিপোর্ট জমা না হওয়ায় পরবর্তীতে তদন্ত কাজ সুষ্ঠ ও দ্রুততার সাথে সমাপ্ত করার জন্য ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ তারিখ উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাকে সম্পূক্ত করেন| কিন্তু সমবায় কর্মকর্তা মোল্লা সাইফুল ইসলামকে বাদ দিয়ে তৎকালীন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মফিজুর রহমান একাই প্রায় ১ বছরের অধিক সময়ের পরে একতরফা তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেন|
বিষয়টি নিয়ে চিতলমারী উপজেলার মাসিক আইন-শৃংখলা সভায় উত্থাপিত হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বর্তমান মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আল মুরাদকে অধিকতর নিরপেক্ষ, বস্তুনিষ্ঠ, বিধি সম্মত ও তথ্য প্রমান ভিত্তিক তদন্তের নির্দেশ দেন| দীর্ঘ তিন মাস পর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও তদন্তকারী কর্মকতা মোঃ আল মুরাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশের আলোকে গত ১ জুলাই নিরপেক্ষ, বস্তুনিষ্ঠ, বিধি সম্মত ও তথ্য প্রমান ভিত্তিক তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেন|
তদন্ত রিপোর্টে প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিধান চন্দ্র ব্রক্ষের দুর্নীতি প্রকাশ পাওয়ায় তিনি প্রকাশ্যে ওই শিক্ষা কর্মকর্তাকে গালমন্দ করেন| অর্থ আত্মসাতের ঘটনাটি তিনি ধামাচাপা দিতে নেতাদের দিয়ে অভিযোগকারী শিক্ষকদের হুমকি-ধামকি দিয়েছেন| শুক্রবার (১০ জুলাই) ভূক্তভোগী শিক্ষকরা জানিয়েছেন নেতাদের হুমকি-ধামকিতে তারা ¯^পরিবারে ভীত-সন্তস্ত্র হয়ে পড়েছেন| এতেও ক্ষান্ত হননি ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচারণকারী প্রধান শিক্ষক বিধান চন্দ্র ব্রহ্ম| তিনি নেতাদের নিয়ে এখন প্রশাসনের দ্বারে দৌঁড়ঝাঁপ শুরু করছেন|
কালশিরা রাজেন্দ্র স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অভিযোগকারী সহকারী শিক্ষক প্রভাত কুমার মজুমদার, সুশান্ত কুমার ব্রহ্ম ও স্মৃতি রাণী ঘরামী বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগের ১৬ বছরে প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিধান চন্দ্র ব্রহ্ম ক্ষমতা অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রায় ৪৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন| এ ঘটনায় আমরা বিদ্যালয়ের ৭ জন শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করি| উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ২ জন কর্মকর্তা সমš^য়ে তদন্ত রিপোর্ট জমা প্রদানের নির্দেশ দেন| কিন্তু বহু টালবাহানা শেষে তৎকালীন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগের দোসর মোঃ মফিজুর রহমান একাই তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করেন| ওই রিপোর্ট প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বর্তমান মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আল মুরাদকে নিরপেক্ষ, বস্তুনিষ্ঠ, বিধি সম্মত ও তথ্য প্রমান ভিত্তিক অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন| সেই নির্দেশের আলোকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ আল মুরাদ গত ১ জুলাই তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেন| রিপোর্ট দাখিলের খবর শুনে সম্প্রতি তিনি স্কুলে নেতাদের ডেকে আমাদের বিরুদ্ধে উস্কে দেন| সেখানে উপস্থিত এক নেতা বিষয়টি চেপে যাওয়ার জন্য আমাদের নানা ধরনের হুমকি-ধামকি দেন|’
এ ব্যাপারে কালশিরা রাজেন্দ্র স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘শিক্ষা কর্মকর্তা আল মুরাদ আমার বিরুদ্ধে তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না| ওনার কাজ উনি করেছে| আমার কাজ আমি করব|’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আল মুরাদ জানান, তদন্তে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরিন নিরীক্ষা কমিটির ৩ সদস্যদের হিসাব সঠিক বলে প্রতীয়মান হয়েছে| এতে প্রধান শিক্ষক বিধান চন্দ্র অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে প্রমান মিলেছে|
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অধিকতর তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছেন| রিপোর্টটি পুঙ্খানু পুঙ্খানু ভাবে যাচাই বাছাই শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে|