সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
চিতলমারীতে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস এর প্রস্তুতি সভা চিতলমারীতে ভয়াবহ আকারে দেখা দিয়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ সাংবাদিক পুত্র প্রিতমকে নরসিংদী থেকে উদ্ধার-প্রশাসন ও গনমাধ্যমকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ চিতলমারীতে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে সাংবাদিকপুত্রের নিখোঁজ, সন্ধানের আকুতি চিতলমারীতে ডিভোর্সি স্বামীর হত্যা চেষ্টা: অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন এক নারী চিতলমারীতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত চিতলমারী হাসিনা বেগম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নবগঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটিকে সংবর্ধনা প্রদান চিতলমারীতে দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে প্রশাসনের প্রস্তুতিমূলক সভা স্মৃতির আলো-ছায়ায় এক জীবন: এক লড়াকু সাংবাদিকের আত্মকাহিনি বাগেরহাটে ইসলামী মহাসম্মেলন ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি, নেতৃত্বে মাওলানা মাহফুজুর রহমান

চিতলমারীতে ভয়াবহ আকারে দেখা দিয়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ

রিপোর্টারের নাম / ৩৯ টাইম ভিউ
আপডেট সময়: সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৭ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাগেরহাটের চিতলমারীতে ভয়াবহ আকারে দেখা দিয়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। প্রতিদিন ঘরে ঘরে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। এছাড়া সাধারণ জ্বর, টাইফয়েড, ডাইরিয়া, হামসহ নানা রোগ ব্যাপক ভাবে দেখা দেওয়ায় অনেকের মধ্যে নানা শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে প্রতিনিয়ত স্থানীয় ক্লিনিক ও সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভিড় বাড়ছে রোগীদের। রোগীর তুলনায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যাপ্ত মেডিসিন না থাকায় চিকিৎসকরা হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসা দিতে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দ্রুত সহযোগীতা কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চিতলমারী উপজেলার সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রেটি মাত্র ৫০শয্যার। বর্তমানে এখানে প্রায় প্রতিদিন শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। এর মধ্যে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে হুহু করে। তাদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। ধারণক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণ রোগীর চাপে বর্তমানে চরম শয্যা সংকটে পড়েছে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। শয্যা না পেয়ে নিরুপায় হয়ে রোগীদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে হাসপাতালের বারান্দা ও মেঝেতে। এমনকি মেঝেতেও অতিরিক্ত রোগীর চাপে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হবার পাশাপাশি বাড়ছে ময়লা আবর্জনা ও পানির সংকট। হাসপাতালের প্রতিটি পুরুষ ও নারী ওয়ার্ড শয্যা পূর্ণ হয়ে গেছে। শয্যা না পেয়ে বারান্দা, ভবনের গলিতে চাদর ও পাটি বিছিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন অসংখ্য রোগী। তিল ধারণের ঠাঁই নেই বললেই চলে। জ্বর, নিউমোনিয়া,শ্বসকষ্টজনিত,ডাইরিয়া, হাম ও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে বলে জানালেন চিকিৎসকরা।
হাসপাতালের মেঝেতে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগী সুরাজ বিশ্বাস, মিতালী বাড়ৈ, রত্না বিশ্বাসসহ অনেকে জানান, গত কয়েকদিন ধরে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ডেঙ্গু ওয়ার্ডে সিট মিলছেনা। প্রতিদিন নতুন রোগীর ভিড় বাড়ছে বলে জানান তারা। অতিরিক্ত গরম আর সিটের অভাবে শিশু ও নারীদের কষ্ট আরও বেড়েছে বলেও হতাশা প্রকাশ করেন তারা। অনেকের নিরুপায় হয়ে মেঝেতে শুয়েচিকিৎসা নিতে হচ্ছে, কারণ বাইরে চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ নেই তাদের। তবে নানা সংকটের মধ্যে নার্স ও চিকিৎসকরা ভালো সেবা দিচ্ছেন বলেও রোগীদের অনেকে অভিমত দেন।
রোগীদের এ উপচে পড়া ভিড় হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও সেবিকারা। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী সামলাতে গিয়ে ডাক্তারদের দৈনিনন্দিন চিকিৎসাসেবা দিতে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও পরিচ্ছন্নকর্মী ও ঔষধের ঘটতি থাকায় ভোগান্তি আরও চরম আকার ধারণ করছে। মেঝে ও বারান্দয় গাদাগাদি করে চিকিৎসা নেওয়ার ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে রোগীদের।
চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও প:প: কর্মকর্তা ডা: সর্মী রায় জানান, প্রতিদিন দুর-দুরান্তের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রচুর রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন এখানে। বর্তমানে মধ্যে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে প্রতিদিন। এ সকল রোগীদের প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসা সামগ্রী অপ্রতুল। এছাড়া ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলানো অত্যান্ত কষ্ট হচ্ছে চিকিৎসকদের। তবে সাধ্যের সবটুকু চেষ্টা দিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিমত দেন তিনি। ডেঙ্গু রোগীদের ভয় না পেয়ে সঠিক চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *